অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব

কিয়ার স্টারমারের দুই বছর

নিজ দলের ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে সম্প্রতি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

বিদায়ী ভাষণে স্টারমার তার সরকারের নানা সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, ১৪ বছরের মিতব্যয়ী অর্থনৈতিক নীতির পর লেবার সরকার দেশটির অর্থনীতিকে নতুন পথে ফিরিয়ে এনেছে। তবে অর্থনৈতিক সূচকগুলো বলছে, স্টারমারের শাসনামলের চিত্র পুরোপুরি একমুখী নয়। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব বেড়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনাও চাপে রয়েছে।

» প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য ঘোষণা করেন। তবে ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশটির অর্থনীতি দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও তৃতীয় প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়ায় দশমিক ২ শতাংশে। ২০২৫ সালের শুরুতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আগেভাগে পণ্য মজুদ করতে শুরু করে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ফের গতি কমে যায়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) যুক্তরাজ্যের জিডিপি দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ে। ওই সময় দেশটি জি৭-ভুক্ত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশে পরিণত হয়।

» মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি

স্টারমার সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি ছিল। কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছে। পানির বিল বৃদ্ধি এবং যানবাহন কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতি ফের কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর তেলের দাম বাড়ে। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়।

» কর্মসংস্থানে ধীরগতি

স্টারমার সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শ্রমবাজার। ২০২৪ সালে সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কর্মী নিয়োগের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন নিয়োগে অনেক প্রতিষ্ঠান সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

» সরকারি ঋণে কিছুটা স্বস্তি

সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছে লেবার সরকার। ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের পরিমাণ জাতীয় আয়ের ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের সমান ছিল। সর্বশেষ হিসাবে তা কমে ৯৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে।

» কমেছে সুদহার

স্টারমার সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে সুদহার কমাকে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ক্ষমতাকালে ছয় দফা সুদহার কমিয়েছে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে সুদহার ছিল ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ তা কমে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে আসে।

» সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পরিবর্তন

সামাজিক কল্যাণ খাতে লেবার সরকার তুলনামূলক উদার অবস্থান নিয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে স্টারমার সরকার দুই-সন্তান সীমা নীতি বাতিল করে। ফলে বড় পরিবারগুলো আরো বেশি ভাতা পাওয়ার সুযোগ পায়। —দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

আরও